ফেনী জেনারেল হাসপাতালে দর্শনার্থী পাসকার্ড চালু
২৫০ শয্যার ফেনী জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের স্বজনদের জন্য দর্শনার্থী পাসকার্ড চালু হয়েছে।
রোগীদের সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, ওয়ার্ডগুলোতে ভিড় নিরসনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় হাসপাতালে দর্শনার্থীদের জন্য পাসকার্ড চালু উদ্বোধন করেন ডিসি মো. ওয়াহিদুজজামান।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নতুন ভবনে ও পুরাতন ভবনের গেইটে দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ড পাসকার্ড চেক করে ভর্তি হওয়া রোগীর সাথে একজন করে স্বজন ভিতরে প্রবেশ করাচ্ছেন। এ কার্ড চালুর ফলে কোনো ওয়ার্ডে আগের মতো কোনো ঝামেলা নেই।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো আবু তাহের পাটোয়ারী, ফেনী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আবু তাহের, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
ডিসি বলেন, হাসপাতালে পাসকার্ড চালু অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ফেনী ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে এই উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে রোগীদের কল্যাণ সাধিত হবে। সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণে রোগী ও তাদের স্বজনরা এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু তাহের পাটোয়ারী জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক প্রথম দুটি জেলা একটি মাগুরা সদর হাসপাতাল, অপরটি ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে একজন দর্শনার্থী প্রবেশে পাসকার্ড চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, পাসকার্ড চালুর মাধ্যমে হাসপাতালের ভেতরে কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি, এমনকি ওষুধের দোকান ও দালাল প্রবেশ করতে পারবে না। এতে করে ঝামেলাবিহীন সেবা প্রদান করা যাবে। আগের তুলনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দর্শনার্থী পাস ছাড়া ওয়ার্ডে কেউ অবস্থান করতে পারবে না। একজন রোগীর সঙ্গে একজন স্বজন ভর্তি হওয়ার সময় ১০০ টাকা দিয়ে একটি পাস কার্ড সংগ্রহ করবেন। রোগীকে হাসপাতালের ছাড়পত্র প্রদান করা হলে দর্শনার্থী কার্ড জমা দিলে ১০০ টাকা ফেরত দেয়া হবে। দর্শনার্থী পাস হারিয়ে গেলে বা ফেরত না দিলে সংগ্রহের সময় জমার টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না।
শীতকালে পাস ছাড়া রোগী দেখার সময় বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। গ্রীষ্মকালে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। হাসপাতালে কর্মরত সব স্টাফ আলাদা বিশেষ পাস ব্যবহার করবেন। এছাড়া হাসপাতালের রোগীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনাবলী সাঁটানো হয়েছে। প্রতিটি সিটের পাশে কেবিন ও সিট ভাড়ার তালিকা দেয়া হয়েছে। হাসপাতালের আঙ্গিনাসহ ওয়ার্ডগুলোর নাম ও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।